Latest News

জলাতঙ্ক

জলাতঙ্ক কি?
র‌্যাবিস্ বা জলাতঙ্ক একটি ভাইরাস জনিত রোগ। এটি একটি মরণ ব্যাধি। র‌্যাবিস্ ভাইরাসের সংক্রামণে রোগটি হয়ে থাকে।

জলাতঙ্ক কিভাবে ছড়ায় ?
র‌্যাবিস ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত প্রাণীর (কুকুর, শিয়াল, বাদুড়, বিড়াল) লালার মাধ্যমে রোগটি ছড়ায়। এসব প্রাণী র‌্যাবিস ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত মানুষকে কামড়ালে জলাতঙ্ক রোগটি হয়। তাছাড়া আক্রান্ত প্রাণীর লালার সং¯পর্শে আসলেও জলাতঙ্ক রোগটি হতে পারে।

প্রাণী দ্বারা র‌্যাবিস সংক্রামণকে ডঐঙ তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে
ক্যাটাগরি-১ শুধুমাত্র প্রাণীর সং¯পর্শে আসা বা প্রাণীকে খাওয়ানো বা অড়ত তুকে লেহন কোন ভ্যাকসিন বা র‌্যাবিস ইমিউনিগোবিউলিন দরকার নেই।
ক্যাটাগরি-২ অরক্ষিত ত্বকে খোঁচা, হালকা (আঁচর বা ক্ষত রক্তপাত ছাড়া) দ্রæত র‌্যাবিস্ ভ্যাকসিন নিতে হবে এবং ক্ষতস্থান পরিষ্কার করতে হবে
ক্যাটাগরি-৩ প্রাণীর এক বা একাধিক কামড় বা আঁচড়, ক্ষত ত্বকে লেহন মিউকাস মেমব্রেন প্রাণীর লালা দ্বারা মিশ্রিত হলে এবং বাদুড় দ্বারা আক্রান্ত হলে। দ্রæত র‌্যাবিস্ ভ্যাকসিন এবং ব্যাবি ইমিউনিগোবিউলিন নিতে হবে এবং ক্ষত স্থান পরিষ্কার করতে হবে।

জলাতঙ্ক রোগটির লক্ষণগুলো কি ?
র‌্যাবিস্ ভাইরাসটি কেন্দ্রিয় ¯œায়ুতন্তে করে (ব্রেইন এবং ¯পাইনাল কর্ড)। প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো- জ্বর, মাথাব্যথা এবং সাধারণ অস্বস্থি প্রকাশ পায়। একদিনের মধ্যেই যে সকল লক্ষণগুলো প্রকাশ পাবে তা হলো- উদ্বেগ, বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, অস্বাভাবিক আচরণ, মানসিক বিকারগ্রস্থ হওয়া ইত্যাদি। একবার এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পেলে রোগটি ১০০% প্রাণঘাতী হয়। সুতরাং প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর পরই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং ভ্যাকসিন নেওয়া প্রয়াজেন।
প্রানী দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা গুলো কি?
কুকুর বা অন্য জন্তুর কামড়ের পর:
প্রচুর পানি ও সাবান দিয়ে ক্ষতস্থানটি ধুয়ে ফেলুন।
অ্যান্টিসেপটিক বা পভিডন আয়ািেডন লাগিয়ে দিন।
ক্ষতস্থানে হলুদ গুড়া, বাম, পিতলের থালা, চুন, ভেষজ, ঝাল ইত্যাদি কিছু লাগাবেন না।
ক্ষতস্থানে ছ্যাঁকা লাগাবেন না বা পাড়োবেন না এবং ক্ষতস্থানটি ঢাকবেন না বা সিলাই করবেন না।
যতদ্রæত সম্ভব রোগীকে ডাক্তার, কিনিক বা হাসপাতালে পাঠানারে ব্যবস্থা করুন এবং ভ্যাকসিন নিন।

ভ্যাকসিনের সময়সূচি
কামড় দেয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা ক্ষতস্থান ১৫-২০ মিনিট সময় ধরে ভালভাবে সাবান, পানি, ডিটারজেন্ট অথবা পভিডন আয়োডিন দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে, যাতে র‌্যাবিস্ এর সংক্রমণ যতটা সম্ভব কমানো যায়।
ক্ষতস্থানে ছ্যাঁকা লাগাবেন না বা পাড়োবেন না।
যতদ্রæত সম্ভব রোগীকে ডাক্তার, কিনিক বা হাসপাতালে পাঠানারে ব্যবস্থা করুন এবং ভ্যাকসিন নিন।

প্রাণী কামড় দেয়ার পর ৫টি ডোজ:
১ম ডোজ- কামড়ের পর যত দ্রæত সম্ভব; ২য় ডোজ- ১ম ডোজের ৩ দিন পর;
৩য় ডোজ- ১ম ডোজের ৭ দিন পর; ৪র্থ ডোজ- ১ম ডোজের ১৪ দিন পর;
৫ম ডোজ- ১ম ডোজের ২৮ দিন পর।
# ক্যাটাগরি-৩ কামড়ের ক্ষেত্রে র‌্যাবিস্ ভ্যাকসিন দেওয়ার সাথে সাথে নির্দেশ অনুযায়ী র‌্যাবিস্ ইমিউনিগোবিউলিন নিতে হবে।
যারা পূর্বে ৫টি ডোজ নিয়েছেন এবং ৫ বছরের মধ্যে পুনরায় প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ২টি ডোজ নিতে হবে।
১ম ডোজ- কামড়ের পর যত দ্রæত সম্ভব; ২য় ডোজ- ১ম ডোজের ৩ দিন পর
# যাদি পূর্বে র‌্যাবিস্ ভ্যাকসিন দেয়া থাকে এবং ৫ বছর অতিক্রম হয়ে যায় তবে কামড় দেয়ার পর উপরের ৫টি ডোজের নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাকসিন নিতে হবে।
র‌্যাবিস্ প্রতিরোধে ৩টি ডোজ নিতে হবে
১ম ডোজ- যে কোন দিন; ২য় ডোজ- ১ম ডোজের ৭ দিন পর
৩য় ডোজ- ১ম ডোজের ২১ বা ২৮ দিন পর।

র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন
র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন হল বায়ালেজিক্যাল প্রোডাক্ট যা রোগীর শরীরের নিজস্ব ইমিউনসিস্টেম সাড়াদানের পূর্বেই তৎক্ষণাৎ এন্টিবডি তৈরী করে।

কখন এবং কিভাবে র্যাবিস ইমিউনোগেøাবিউলিন দিতে হবে?
সকল ক্যাটাগরি-৩ কামড়ের ক্ষেত্রে যত তারাতারি সম্ভব র‌্যাবিস ইমিউনোগেøাবিউলিন দিতে হবে। ক্ষতচিহ্ন এবং তার চারপাশে যতটুকু সম্ভব র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে। ক্ষতস্থান ভেজানারে পর অবশিষ্ট অংশটুকু অ্যান্টেরোল্যাটেরাল বা ডেল্টয়ে অঞ্চলের মাংস পেশীতে পুশ করতে হবে। তারপর ঐ দিনই যেখানে র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন পুশ করা হয়েছে সেখান থেকে ভিন্ন স্থানে অ্যান্টি- র‌্যাবিস্ ভ্যাকসিন দিতে হবে (যেমন ডান হাতে র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন দিলে বাম হাতে ভ্যাকসিন দিতে হবে। ক্যাটাগরি-৩ কামড়ে অবশ্যই র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন দিতে হবে কিন্তু তা কখনোই র‌্যাবিস্ ভ্যাকসিনের বিকল্প নয়। কারন, র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন জলাতঙ্ক থেকে শুধু তৎক্ষণাৎ ও স্বল্পমেয়াদী সুরক্ষা দেয় কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সুক্ষার জন্য ভ্যাকসিন নেওয়া বাধ্যতামুলক।
র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন ডোজ
৪০ আই ইউ/কিলাগ্রোম হিসেবে ইকুইন র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন এর একটি মাত্র। ডোজ, তবে সর্বোচ্চ ৩০০০ আই ইউ দেওয়া যায়।

মনে রাখতে হবে যে
র‌্যাবিস্ ভ্যাকসিন এবং ইমিউনোগেøাবিউলিন একসাথে নিতে হবে। যদি না নেওয়া যায় তবে ভ্যাকসিন শুর করার ৭ দিনের মধ্যে ইমিউনোগেøাবিউলিন নিতে হবে। কারন তখন এটি শরীরের নিজস্ব এন্টিবডি উৎপাদনকে বন্ধ করে দেয়। র‌্যাবিস্ ভ্যাকসিন ও ইমিউনোগেøাবিউলিনের জন্য পৃথক পৃথক সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে। শরীরের যে স্থানে র‌্যাবিস্ ভ্যাকসিন প্রয়াগে করা হয় তা থেকে ভিন্ন কোন স্থানে ইমিউনোগেøাবিউলিন প্রয়োগ করতে হবে।
ক্ষতচিহ্নে র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন দেয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন তারক্তনালী বা ¯œায়ুতন্ত্রে প্রবেশ না করে।
একের অধিক কামড়ের ক্ষেত্রে র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিনের পরিমাণ যদি অপর্যাপ্ত হয় তবে নরমাল স্যালাইনের সাথে মিশিয়ে ইমিউনোগেøাবিউলি কে দ্বিগুন বা তিনগুন পর্যন্ত আয়াতেনে পাতলা করতে হবে।
র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন প্রয়ােেগর পর রোগীকে ১ ঘন্টা পর্যবেক্ষণে রাখুন।

র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন কেন?
ক্যাটাগরি-৩ কামড়ে শুধু ভ্যাকসিনই যথেষ্ট নয়।
কারনক্যাটাগরি-৩ কামড়ে, কামড়ের কারনে রক্তপাত হলে এবং মাথার কাছাকাছি যেমন মুখ, নাক, কান, গলা, কাধ, বাহু, হাত ইত্যাদি অঙ্গে কামড় দিলে শুধুমাত্র র্যাবিস ভ্যাকসিন জলাতঙ্ক থেকে যথাযথ সুরক্ষা দেয়না।

এইসব ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ভ্যাকসিন নিলে তা ঠিক মত কাজ নাও করতে পারে। সেজন্য, র‌্যাবিস্ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজের সাথে র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন দিতে হবে। র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন শুধু ক্যাটাগরি-৩ কামড়ের জন্য। র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন এর প্রি-এক্সপাজোর প্রয়োগের দরকার নেই। শুধু মাত্র ক্যাটাগরি-৩ কামড়ে, কামড়ের কারনে রক্তপাত হলে এবং মাথার কাছাকাছি যেমন মুখ, নাক, কান, গলা, কাধ, বাহু, হাত ইত্যাদি অঙ্গে কামড় দিলে র‌্যাবিস্ ইমিউনোগেøাবিউলিন দিতে হবে।

মাথার কাছাকাছি স্থানে কামড় দিলে র‌্যাবিস্ ভাইরাস শীঘ্রই মস্তিস্কে পৌছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে জলাতঙ্ক রোগ হয়ে যায়।
মাথা থেকে দূরে কোন স্থানে কামড় দিলে র‌্যাবিস্ ভাইরাস মস্তিস্কে পৌছাতে একটু বেশী সময় লাগে। ফলে জলাতঙ্ক রোগ হতে তুলনামুলকভাবে দেরী হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *