Latest News

সাপের কামড়ের চিকিৎসা

পরিসংখ্যান:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর সাপে কামড়ানারে ঘটনা ঘটে ৮০০০ এরো বেশি বার এবং ২০% ক্ষেত্রে দংশিত ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে থাকে। সর্প দংশনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে মে মাস থেকে অক্টোবর মাস অবধি (বর্ষাকালে) এবং জুন মাসে সাপের প্রকোপ থাকে সবচেয়ে বেশি।

সাকোমড়ের লক্ষণসমূহ:
সাপের বিষ সাধারণত মানুষের ¯œায়ুতন্ত্র ও রক্তসংবহনতন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলে থাকে। কেউটে (ওহফরধহ শৎধরঃ) ও গাখেরা (ঈড়সসড়হ ঈড়নৎধ) সাপের বিষ ¯œায়ুর উপর প্রভাব ফেলে। তাই এদের বিষকে নিউরাটেক্সিক বলা হয়। এর দরুণ হৃৎপিন্ডের কাজ ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে রোগী মারা যায়। কেউটে ও গোখরাে কামড়ালে: কামড়ের জায়গায় ব্যথা হতে পারে; কামড়ের এক দেড় ঘন্টা পরে ক্ষতস্থান ফুলে উঠতে পারে; কখনও কখনও ক্ষতে ঘা দেখা যায় বা নেকরোসিস হতে পারে; রোগী চোখে আবছা বা অস্পষ্ট দেখে; চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসে; পা কাঁপে এবং রোগীর জন্য দাঁড়িয়ে থাকা। কঠিন হয়ে পড়ে; রোগীর কথা জড়িয়ে আসে; মুখ দিয়ে লালা ঝরে পরে; দারুণ শ্বাসকষ্ট হয় এবং শরীরে খিচুনী দেখা দেয়। অবশেষে রোগী দমবন্ধ বা হৃৎপিন্ডের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়।

অন্যদিকে চন্দ্রবাড়ো (জঁংংবষষ’ং ঠরঢ়বৎ) সাপের বিষ রক্তের উপর ক্রিয়া করে। এদের বিষকে হিমাটোটক্সিক বলা হয়। এই সাপ কামড়ালে সাথে সাথে জ্বালাপাড়ো অনুভ‚ত হতে পারে; ক্ষতস্থান মারাত্বকভাবে ফুলে উঠবে এবং ফোসকাও পড়তে পারে; ক্ষতস্থানের আশে পাশের জায়গা নীল, লাল, কাল বা সবুজ রঙ ধারণ করতে পারে; রোগীর বমি বমি ভাব হবে, শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়বে এবং রোগী খুব উত্তেজিত বাধে করবে; থুথু, বমি, প্রসাব ও পায়খানার সাথে রক্ত আসতে পারে। সাপ রোগীর দেহে অতিমাত্রায় বিষ ঢেলে থাকলে রোগীর চোখ, ঠোঁট, দাঁতের মাড়ি, নখের নীচ ও পায়ু পথ থেকে রক্ত বেরোতে পারে; রোগীর চোখ ঝাপসা হয়ে আসবে এবং শ্বাসকষ্ট হবে। অবশেষে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ, হৃৎপিন্ড অত্যন্ত দুর্বল এবং লিভারের সকল কাজ বন্ধ হয়ে যাবার দরুণ রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

সাপের কামড় থেকে বাঁচতে হলে:
বিশেষ কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলেই সাপের কামড় এড়ানো সম্ভব। যেমন:
১। কিছু সাপ যেমন গোখরা, দিনের উজ্জ্বল আলোয় চোখে ভাল দেখে না। সুতরাং সন্ধ্যা বা ভোরবেলায় অন্ধকার থাকা কালীন সময় অবশ্যই আলো ব্যবহার করুন এবং কোথাও হাত পা দিতে হলে, জায়গাটাকে আগে ভাল করে দেখে নিন।
২। রাতে মেঝেতে শােেবন না ও অন্ধকারে খালি পায়ে চলাফেরা করবেন না।
৩। বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব এড়াতে বিøচিং পাউডার বা কার্বলিক অ্যাসিড ছড়ানো যেতে পারে।

৪। যদি কখনও সাপের মুখোমুখি হন, তখন নিজেকে একদম নিশ্চল রাখুন। সাপকে কোনভাবেই উত্তেজিত করবেন না।
৫। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন, যদি সাপে কামড়ে থাকে তবে আতংকিত না হয়ে বরং কোন প্রকার দেরী না করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে যান।

সাপের কামড়ের চিকিৎসা:
প্রাথমিক চিকিৎসা : সাপে কাটা মানেই নিশ্চিত মৃত্যু নয়। রোগীকে সাহস দিন, আশ্বস্ত করুন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিয়ে যান। রক্তক্ষরণের জন্য ক্ষতস্থান বা তার আশে পাশে কোন মতেই কাঁটা ছেড়া করবেন না। আক্রান্ত স্থানের কয়েক ইঞ্চি ওপরে ব্যান্ডেজ, বেল্ট বা ছেড়া জামাকাপড় দিয়ে হালকা করে বেঁধে ফেলুন।
অ্যান্টিভেনাম প্রয়োগ: সাপে কাটার নির্দিষ্ট, নির্ভরযোগ্য ও একমাত্র ফলপ্রসু চিকিৎসা হল অ্যান্টিভেনাম প্রয়োগ। সুতরাং সাপে কাঁটা রোগীকে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অ্যান্টিভেনামে প্রয়োগ করা উচিৎ। এই চিকিৎসা যত তাড়াতাড়ি করা হবে ততই রোগীর মঙ্গল। অনেক সময় সাপের কামড় দেখে কি ধরণের সাপ কামড়েছে তা বোঝা নাও যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে রোগীকে অবশ্যই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি খুব দ্রæত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিভেনামে প্রয়াগে করতে হবে।

যে যে সাপের কামড়ের বিরুদ্ধে কার্যকারী:
ঈড়সসড়হ ঈড়নধৎধ (ঘধলধ হধলধ)
ওহফরধহ কৎধরঃ (ইঁহমধৎঁং পধবৎঁষবঁং)
জঁংংবষষ’ং ঠরঢ়বৎ (ঠরঢ়বৎধ ৎঁংংবষষর)
ঝধ-িংপধষবফ ঠরঢ়বৎ (ঊপযরং পধৎরহধঃঁং)
এবং এই সকল সাপের নিকটস্থ সকল প্রজাতি

হিউম্যান নরমাল ইমিউনোগেøাবিউলিন
ইমিউনোগেøাবিউলিন হিউম্যান নরমাল ইমিউনোগেøাবিউলিন একটি ইমিউনোগেøাবিউলিন -জি এর প্রস্তুতি যা মানুষের পাজমা থেকে সংগ্রহ করা হয়। রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কম থাকার কারণে যেসব রোগ হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রস্তুতি নির্দেশিত।

নির্দেশনা:
আইটিপি প্রাইমারী ইমিউনিডেফিসিয়েনসি
গুলিয়ান বেরি সিন্ড্রোম এ-/হাইপাগোমাগািেবউলিনমা
কাওসাকি ডিজেস
ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাল ইনফেকশনে এনটিবায়ািেটক এর সাথে কম্বাইনড থেরাপি হিসাবে

সেবনমাত্রা ও বিধি:
সদ্যভ‚মিষ্ঠ এবং শিশু: দৈনিক ২৫০মিলিগ্রাম /কেজি মাত্রায় পর পর ৩ দিন দিতে হবে। চিকিৎসার উন্নতির প্রয়োজনে বেশি মাত্রায় প্রয়োগ করা যেতে পারে।
এ-/হাইপাগোমাগোবিউলিনমা: প্রাপ্তবয়ষ্ক এবং শিশুদের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাল ইনফেকশনে এনটিবায়োটিক এর সাথে কম্বাইনড থেরাপি হিসাবে ২৫০০-৫০০০ মিলিগ্রাম একক মাত্রায় শিরার মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে। এ/হাইপাগোমাগোবিউলিনমা জন্য ৫০-১৫০ মিলিগ্রাম/কেজি একক মাত্রায় শিরার মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে। শিরার মধ্যে প্রয়োগের সময় খুব ধীরে ধীরেপ্রয়োগ করতে হবে।
আইটিপি: দৈনিক ২০০-৪০০মিলিগ্রাম/কেজি মাত্রায় পর পর ৫ দিন দিতে হবে।যদি পর্যাপ্ত পরিমানে রোগীর উন্নতি না হয় সেক্ষেত্রে অধিক মাত্রায় ঔষধ প্রয়োগ করা যাবে না।
গুলিয়ান বেরি সিন্ড্রোম: দৈনিক ৪০০মিলিগ্রাম/কেজি মাত্রায় পর পর ৫ দিন দিতে হবে।

কাওসাকি ডিজেস: দৈনিক ৪০০মিলিগ্রাম/কেজি মাত্রায় অথবা ২০০০মিলিগ্রাম মাত্রায় পর পর ৫ দিন শিরার মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে। আর রোগ নির্ণয়ের ৭ দিনের মধ্যে চিকিৎসা শুর করতে হবে।

কিভাবে দিতে হবে ?
হিউম্যান নরমাল ইমিউনোগোবিউলিন শিরার মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে। ইনজেকশন খুব ধীরে ধীরে প্রয়োগ করতে হবে এবং ব্যবহার করার পূর্বে ঔষধটি কে কক্ষ তাপমাত্রায় নিতে হবে।

এটি শিরার মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে নি¤œলিখিত উপায়ে:
০.০১ মিলি ০.০২ মিলি/কেজি/মিনিট হিসাবে প্রথম ৩০ মিনিট দিতে হবে এবং এরপর সর্বোচ্চ ০.০৬ মিলি/কেজি/মিনিট হিসাবে ইনফিউশনের হার বাড়ানো যাবে যদি রোগীর কোন সমস্যা না হয়। তারপর এই ইনফিউশনের হার ঘণ্টা হিসেবে হিসাব করা হয় ০.০৬-১.২ মিলি/কেজি/ঘণ্টা এবং সর্বোচ্চ ৩.৬ মিলি/কেজি/ঘণ্টা হিসাবে দিতে হবে।

শব্দকোষ:
প্রাইমারী ইমিউনিডেফিসিয়েনসি: প্রাইমারী ইমিউনিডেফিসিয়েনস হচ্ছে এমন একটি রোগ যার ফলে শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম কাজ করে না। এটি মূলত বংশগত সমস্যার কারনে হয় এবং কমবয়সী শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা বেশী দেখা দেয়।
এ-/হাইপোমাগেøাবিউলিনমা: হাইপোমাগেøাবিউলিনমা হচ্ছে এক ধরনের ইমিউনিডেফিসিয়েনসি যা রক্তে গামা গেøাবিউলিনের পরিমান কমিয়ে দেয়। তাই শরীরে যথেষ্ট পরিমান এ এন্টিবডি থাকে না এবং ইমিউনিটি সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আইটিপি: আইটিপি হচ্ছে অটো ইমিউনি ডিওডার যা রক্তের অণুচক্রিকার পরিমান কমিয়ে ফেলে এবং অত্যাধিক রক্তপাত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।
গুলিয়ান বেরি সিন্ড্রোম: গুলিয়ান বেরি সিন্ড্রোম শরীরের মাংসপেশীকে দুর্বল করে পেরিফেরাল নার্ভকে আক্রমন করে ইমিউনিটি সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয় এবং অনেক সময় ইমিউনিটি সিস্টেমকে কাজ করতে দেয় না। প্রাথমিক লক্ষণে হাত এবং পায়ের পাতা ব্যথা অনুভব হবে।
কাওসাকি ডিজেস: বøাড ভেসেলে প্রদাহ সৃষ্টি করে সমস্ত শরীরে প্রদাহ ছড়িয়ে ফেলে। সাধারন লক্ষণ হচ্ছে জ্বর আসা এবং এটি ৫ দিনের বেশী স্থায়ী হয়। শরীরের বিভিন্ন অংশে র্যাশ সৃষ্টি করে। অন্যান্য লক্ষণগুলো হচ্ছে গলা ব্যথা এবং ডায়রিয়া ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *